
কথা২৪ । বরিশাল প্রতিনিধি
এখনও জানা যাচ্ছে যে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। মূলত, ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে তারা এই কর্মসূচি পালন করছেন। শিক্ষাদান, পরীক্ষা গ্রহণ এবং ডিগ্রি প্রদান বিষয়ে একটি সংবিধি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তারা এই শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক কাজে জড়িত শিক্ষকরাও তাদের দায়িত্ব পালন করছেন না।
ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকার কারণে, শিক্ষার্থীরা তাদের অসন্তोष প্রকাশ করেছেন। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী জানান, ‘আমাদের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা না হওয়ায় আমরা এক ধাপ পিছিয়ে পড়লাম।’
এদিকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা শিক্ষকদের কাছে জানতে চেয়েছি, শিক্ষার্থীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আন্দোলন করেছেন, তখন শিক্ষকরা কতটা পাশে ছিলেন। যদিও এ বিষয়ে বিতর্কে না জড়িয়ে একাডেমিক বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।’
মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শাটডাউন অব্যাহত রাখলেও আগামী রোববার থেকে বিভিন্ন বিভাগের রুটিন অনুযায়ী চলমান পরীক্ষা নেওয়া হোক। শিক্ষকদের এই সমস্যার সমাধানের জন্য উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
ছাত্রদল নেতা মোশাররফ উল্লেখ করেন, ‘শিক্ষকদের পক্ষ থেকে আমাদের মতামত নাকচ করা হয়নি। তারা আলোচনা করে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া, কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজেস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তারা অনুরোধ করেছেন পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। শিক্ষকেরা বৈঠকে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে জানাবেন।
ববির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম আজকের পত্রিকাকে জানিয়েছেন, ‘ইউজিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, সংবিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি বন্ধ থাকবে। এ কারণে শিক্ষকদের পদোন্নতি হচ্ছে না এবং আমি ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান, তারা যেন ক্লাস ও পরীক্ষা চালু রেখে আলোচনা মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন।’
প্রসঙ্গত, প্রায় দুই বছর ধরে পদোন্নতির দাবি জানাচ্ছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষক। এর মধ্যে ২৪ জন অধ্যাপক, ৩০ জন সহযোগী অধ্যাপক এবং ৬ জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।